চটপটে তরুণীদের ঈদের ফ্যাশন ট্রেন্ড

চটপটে তরুণীদের ঈদের ফ্যাশন ট্রেন্ড

চটপটে তরুণীদের ঈদের ফ্যাশন ট্রেন্ড

চটপটে তরুণীদের ঈদের ফ্যাশন ট্রেন্ড

তেল আর জলে না মিশলেও মেশানোর চেষ্টা তো করাই যায়! সে চেষ্টা আর কেউ না করলেও করবে কেবল তরুণরাই। এমন কল্পনাকে সত্য করার পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার করতেও সদা প্রস্তুত তরুণপ্রাণ। কাকডাকা ভোরে মিরপুর থেকে পুরানো ঢাকায় গিয়ে নাস্তা করা কিংবা বাইসাইকেলে চড়ে ঢাকার এমাথা ওমাথা ঘুরে বেড়ানোর উন্মাদনা- এসবের মাঝেই লুকিয়ে আছে তারুণ্য। তারুণ্য মানে ব্যাকরণের বাইরে নিজের ভাষায় কথা বলা, অদ্ভুত সব রঙের মিশেলে নতুন রঙের ট্রেন্ড তৈরি করা।

ঈদেও গৎবাঁধা ফ্যাশনের বাইরেই থাকে তারুণ্য। ছেলেদের টি-শার্টের সঙ্গে ঢোলা প্যান্ট বা স্কার্টের সঙ্গে মেয়েদের কপালে ছোট্ট টিপ! কারো কারো মাথায় রঙচঙে কাপড়ের টুপি, কেউ বা বেঁধে নিলো পাগড়ি। কারো একপায়ের জুতাটার লেইস উঠে গেছে গোড়ালি পেরিয়ে বহুদূর, আরেক পায়ে সেই লেইসের দেখাও নেই! এই না হলে ফ্যাশন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট! আর ঈদের সবার চোখে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে হালে এই এক্সপেরিমেন্টই আছে তারুণ্যের পছন্দের একদম শীর্ষে।

ধানমণ্ডির ষোড়শী জাইমা বলেন, এবার ঈদে তার পছন্দ স্কার্ট। যেহেতু গরম, তাই স্কার্টের সঙ্গে ছোট হাতার কোনও স্টাইলিশ টপ তিনি বাছাই করতে যাচ্ছেন। আর স্কার্টের লেন্থ যেহেতু গোড়ালির ওপরে তাই তার পাদুকাজোড়া হবে বেশ অন্যরকম।

মিরপুরের শমি এবার কিনে ফেলেছেন ঢোলা সালোয়ার। একরঙা ঢোলা সালোয়ারের সঙ্গে তিনি বেছে নিয়েছেন বাটিকের টপ। সঙ্গে আছে পুতি আর কাপড়ের তৈরি রঙিন এক্সেসরিজ। শমি জানালেন, তার সব বন্ধুই এবার নানান কাটের নানান ছাটের পোশাক বেছে নিচ্ছে। তরুণ যারা, স্টাইলমেকার হওয়ার তাদের শ্রেষ্ঠ সময়- এই নীতিতে আছেন তারা সবাই। এবার ঈদের আগেই বাজার ঘুরেও দেখা গেল নানান ধরনের পোশাকের মিশেলে বেশ রঙ্গে-ঠাসা স্টাইল ট্রেন্ড-এর সমাহার। তবে আশার কথা এই যে আশেপাশের দেশের পোশাকের ভিড় ঠেলে এর মাঝেই তারুণ্যকে জয় করেছে দেশি পোশাক।

কিভাবে? খুব সহজ! এই চেনা জানা পোশাক, যেমন নিত্যদিনের মতো বানানো ঢোলা সালোয়ার আর কামিজটাকে নিয়ে রদবদল করে ফেললেই হলো! সেলোয়ারের সঙ্গে চলে আসুক টপ আর কামিজের সঙ্গে বন্ধুত্ব হোক পালাজ্জোর। হ্যাঁ, গেল বছরের মতো পালাজ্জো কিন্তু এবারো আছে পছন্দের তালিকায়। অর্থ্যাৎ, আগের সব স্টাইলের ওলটপালটে নতুন করে সাজলেই পাচ্ছেন এই ঈদে ফ্যাশনেবল হওয়ার তকমা।

নানান ঢঙের সালোয়ার এবং কামিজ থেকে যদি এই ঈদে বেরিয়ে আসতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন স্কার্ট। সঙ্গে থাকতে পারে টপ কিংবা ফতুয়া। নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে স্কার্ট বাছাইয়ের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে শোরুম গুলোতে। লং কিংবা শর্ট স্কার্ট, বড় ঘের কিংবা একেবারেই স্লিকি-স্কার্ট-যে কোনও একটা হতে পারে তারুণ্যের পছন্দ। স্কার্টের বেলায় রং আর নকশা খুব একটা প্রভাব ফেলে না, মনের উদ্যম প্রকাশে স্কার্ট একাই যথেষ্ট। স্কার্ট পরিপূর্ণতা পাবে এর সঙ্গে যুতসই টপ কিংবা ফতুয়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ক্রস-ম্যাচিং করে টপ বাছাই করলে, লুকের পূর্ণতা মিলতে পারে।

তরুণীদের মনের কি কোনো ঠিক-ঠিকানা থাকে? এই মন মেঘলা, তো এই আবার একেবারেই ফুরফুরে। ঈদের দিনগুলোতে মনের এই উড়ু উড়ু ভাবকে নিয়ন্ত্রণে আনার এ বছর বেশ ভালো সুযোগ রয়েছে। এ বছর পোশাকের নকশা আর রঙের নানান বৈচিত্র্য প্রকাশ করবে মনের তারুণ্যকে।

বেশ কয়েক বছর ধরে ঈদ ট্রেন্ডে তরুণীদের মধ্যে কুর্তির চাহিদা বেশ। বছর কয়েক আগে কাফতানেরও টেন্ড এসেছিল বাজারে। এ বছর আবারও ফিরছে কাফতান। সেই কাফতানের সঙ্গে রয়েছে পালাজ্জো কিংবা ওপেন প্যান্ট। আবার যাদের পা বেশ ট্রিমড, তাদের জন্য কাফতানের সঙ্গে লেগিংসও যায় বেশ। মোটের ওপর, এবারের ঈদে তরুণীরা নিজেদের ছকে বাধা পোশাক থেকে বের করে আনতে পারবে সহজেই। ‘মিস-ম্যাচিং‘ কিংবা ‘মিক্স-ম্যাচিং‘, একে যা-ই বলা হোক না কেন এবারের ঈদে তরুণীদের মধ্যে ট্রেন্ডিং এটাই। এবারের এই ট্রেন্ড নিয়ে যাত্রা‘র স্বত্ত্বাধিকারী আনুশেহ্ আনাদিল বাংলা ট্রিবিউন লাইফস্টাইলকে বলেন, ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচিংয়ের প্রচলন আসলে অনেক আগে থেকেই। তবে ইদানিং এর পরিসরটা অনেক বড় হয়েছে। আমরা যখন প্রথম সালোয়ার, কামিজ, ওড়না, স্কার্ট, টপস- এসব আলাদা করে বিক্রি শুরু করি তখন ভেবেছিলাম এটা খুব বেশি সাড়া ফেলবে না। কিন্তু মজার বিষয় হলো, আমাদের সালোয়ার-কামিজ প্যাকেজের চেয়ে ক্রেতারা মিক্স-ম্যাচিং করে পোশাক কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এবারও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।‘

 

তরুণীদের সাজে পূর্ণতা আনতে এবার আছে এক্সেসরিজ। কাঁধের ব্যাগ, চুলের ফিতা, পায়ের চপ্পল- সবকিছুই হওয়া চাই যুৎসই। রঙে রঙে মেলা মুখ্য নয়, মিল হওয়া চাই মূলে মূলে! ঈদে বলেই পোশাকের সঙ্গে জরি-পুথি-পাথরের ব্যাগ নয়, নিতে পারেন কাপড়ের রঙিন ঝোলা ব্যাগ কিংবা ছোট বাটুয়া। ব্যাগ নির্বাচনের বেলায় মাথায় রাখতে পারেন পোশাকের বেসিককে। অর্থাৎ পোশাক যদি হয় একটু বেশিই ঢিলেঢালা, তাহলে এর সঙ্গে ঝোলা ব্যাগের চেয়ে পার্স কিংবা বাটুয়া হবে মানানসই। আর কামিজ কিংবা ফতুয়াটা যদি হয় খানিকটা আঁটসাট তাহলে বেছে নিতে পারেন রঙিন কোনো ঝোলা ব্যাগ। সাজে বাঙালিয়ানার ষোলকলা পূর্ণ করতে চুলের খোপায় রূপার কাটার বিকল্প নেই, আর বেনুনিতে রঙিন ফিতা তো চাই-ই চাই। আর যদি হাতের কাছে এর কোনোটাই না মেলে তবে? তাহলে ওড়না দিয়ে চুলের বাঁধন শক্ত করে নিলেও ক্ষতি নেই।

একেবারে পুরোদস্তুর সুতির কাপড়ে রঙিন ঈদের জন্য শহরের ব্যস্ত মার্কেট আর শপিং মলগুলো তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে ফ্যাশন হাউজগুলোর কালেকশনও ভরপুর একেবারে। যাত্রা, রঙ, কে ক্রাফট, দেশাল, সাদাকালো, নগরদোলা, আড়ং, নিপুণ, আবর্তনা, অঞ্জন‘স, নিত্য উপহার, বিবিআনা- এরা সবাই সুতির সব বৈচিত্রপূর্ণ কালেকশন নিয়ে এ ঈদে সেজেছে বণির্ল রূপে। ফ্যাশন হাউজ এবং নকশাভেদে নির্ভর করে পোশাকের দাম। কোথাও বেশি, কোথাও কম। যেখানে বৈচিত্র্য বেশি, সেখানে দামটাও খানিকটা চওড়া। আর বৈচিত্র্যের আধিক্য মানেই তো স্বাচ্ছন্দ্য। তাই স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হলে দামের খানিকটা এদিক সেদিক এই উৎসবের বাজারে মেনে নেয়া যেতেই পারে। তবে বিচক্ষণ ক্রেতারা একটু খোঁজ করলেই সাধ, সাধ্য আর স্বাচ্ছন্দ্য- এ তিনের দেখাই পেয়ে যেতে পারেন এবারের ঈদের বাজারে।

No Comments